রবিবার রাতের অন্ধকারে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা, আর তাতেই থেমে গেল এক তরুণ অভিনেতার জীবনযাত্রা। হায়দ্রাবাদের আউটার রিং রোডে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জনপ্রিয় এই অভিনেতা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী। খবর সামনে আসতেই বিনোদন জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জানা গিয়েছে, কাজ সেরে শহরে ফেরার পথেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা। মাত্র ৩১ বছর বয়সে এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরাও। সমাজ মাধ্যমে শোকবার্তায় ভরে উঠেছে নানা প্ল্যাটফর্ম।
তরুণ বয়সেই জনপ্রিয়তা পাওয়া এই অভিনেতার হঠাৎ চলে যাওয়ায় স্তব্ধ বহু মানুষ। রাতের সেই দুর্ঘটনা এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে তিনি এবং তাঁর সহযাত্রী গাড়িতে করে ফিরছিলেন। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যখন তাঁরা পেদ্দাম্বারপেট এলাকায় পৌঁছন, তখন রাত প্রায় তিনটে। অভিনেতাই নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। শামশাবাদের দিকে যাওয়ার সময় আচমকাই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি কন্টেনার ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই প্রবল ছিল যে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় থানার পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। পরে গাড়ির নম্বর ও মোবাইল ফোন দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতাকেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। পরে জানা যায়, মৃত অভিনেতার নাম ভরত কান্ত এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিনেমাটোগ্রাফার জি সাই ত্রিলোক। দু’জনেই হায়দ্রাবাদের নানাকরামগুড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নেলোরে কাজ সেরে তাঁরা শহরে ফিরছিলেন বলেই পুলিশ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দুই দেহ উদ্ধার করে ওসমানিয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
তেলুগু চলচ্চিত্র জগতে এই খবরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একদিকে উঠতি অভিনেতা, অন্যদিকে দক্ষ টেকনিশিয়ান, একই সঙ্গে দুই তরুণের মৃত্যুতে হতবাক ইন্ডাস্ট্রি। পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল গাড়ি, তা জানার চেষ্টা চলছে। পরিবারগুলির উপর নেমে এসেছে অসহনীয় দুঃখ। ভরত কান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অল্প সময়ে তিনি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘টেন্যান্ট’ ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, যা দর্শকদের নজর কেড়েছিল।
পর্দার বাইরে তাঁর প্রাণবন্ত স্বভাবের জন্যও তিনি অনেকের প্রিয় ছিলেন। ভবিষ্যতে আরও বড় কাজ করার সম্ভাবনা দেখছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠরাও। সেই সময়েই এমন দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন থেমে গেল। অনুরাগীরা বলছেন, এত কম বয়সে তাঁর চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। বহু মানুষ তাঁর পুরনো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশু রেড্ডি ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “এটা আমার জন্য একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি, আমার প্রিয় বন্ধু, বিপদে আপদে যাকে সবার আগে পেতাম।
আরও পড়ুনঃ “প্রডিউসার বা পরিচালক নয়, বাংলা ছবির কাস্টিং ঠিক করে ধর্মতলা স্ট্রিট!” বিতর্ক উস্কে কি দাবি করলেন টোটা রায়চৌধুরী?তবে কি প্রতিভার চেয়ে বাজার দাপটই শেষ কথা? বাংলা ইন্ডাস্ট্রির কাস্টিং রাজনীতির নেপথ্যে কি শুধুই বাজার চাহিদার খেলা চলছে?
আমার পরিবার, আমার মানুষটি এখন ঈশ্বরের চরণে লীন হয়ে গিয়েছে।” আরও লেখেন, “আমি কখনও ভাবিনি এমন কিছু পোস্ট করব যা তোমার কাছে কোনওদিন পৌঁছাবে না।” তাঁর কথায়, “আবার যতক্ষণ না আমাদের দেখা হচ্ছে, তোমার হাসি মুখ সবসময় মনে থাকবে, আমার কাছে তুমি বেঁচে আছ ভারত কান্ত।” শেষে তিনি লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু, আমার জীবনে তোমার জায়গা কেউ নিতে পারবে না!” এই পোস্ট দেখে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অনুরাগীরা। অনেকেই পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।






